সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন

আপডেট
*** অনলাইন নিউজ পোর্টাল / অনলাইন টেলিভিশন সহ যে কোন ধরনের ওয়েবসাইট তৈরির  জন্য আজই যোগাযোগ করুন  - ০১৬৪৬৯৯০৮৫০।।  ভিজিট করুন - www.popularhostbd.com।।

যাত্রা শুরু হল গণস্বাস্থ্যের প্লাজমা সেন্টারের

যাত্রা শুরু হল গণস্বাস্থ্যের প্লাজমা সেন্টারের

গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে প্লাজমা সেন্টার উদ্বোধন করেন ডা. এম এ খান। ছবি: সংগৃহীত

আজ শনিবার সকালে ধানমন্ডিতে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে প্লাজমা সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে। গণস্বাস্থ্যের প্লাজমা সেন্টারে প্রতিদিন ২৫ করোনামুক্ত রোগীর রক্ত থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে।

সেন্টারের উদ্বোধনের আগে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস বিভিন্ন রকম উপসর্গ সৃষ্টি করে। রোগ ভালো হলেও কাউকে খুব দুর্বল করে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে প্লাজমা প্রদানের বিষয়টি আরও অনেক প্রচার হওয়া দরকার। তিনি বলেন, অধ্যাপক এম এ খানের নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশে প্রতিটি জেলায় প্লাজমা সেন্টার হওয়া দরকার। তিনি বলেন, প্লাজমা দেওয়ার কতগুলো নিয়ম আছে। অত্যন্ত সায়েন্টিফিক নিয়ম মেনে সেন্টারে প্লাজমা নেওয়া হবে।

হেমাটো অনকোলজিস্ট অধ্যাপক এম এ খান বলেন, প্লাজমা দুই পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হয়। ওটাকে প্লাজমাফেরিসস, যা করা হয় একটা মেশিনের সাহায্যে। সেটা ব্যয়বহুল ৩০ থেকে ৪০ লাখ একটা মেশিনের দাম। নমুনা সংগ্রহ করতে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাগে। আরেকটা পদ্ধতি হলো, করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠা রোগীর রক্তের নমুনা থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা। এখানে সমস্যা হলো, একজন থেকে যে প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে, তা শুধু একজনকে একবার দেওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে প্লাজমার চাহিদা কমে গেছে। মানুষের আতঙ্ক কমে গেছে। আমার মনে হয় সেপ্টেম্বরের দিকে করোনা “ডিক্লাইন ফেইজের” দিকে আসবে, আস্তে আস্তে কমতে থাকবে।’ এম এ খান বলেন, ‘প্লাজমা থেরাপি কোন সময়ে কাকে দিতে হবে, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগে থেকে প্ল্যান করি, বয়স্ক রোগী যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের যদি আমরা কোভিড আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থেরাপি দিতে পারি, এটা হলো উত্তম। কারণ সুনির্দিষ্ট ভ্যাকসিন আসার আগ পর্যন্ত এটা খুব কার্যকর চিকিৎসাপদ্ধতি। কারণ আমরা জানি, অ্যান্টিভাইরাস যেগুলো ব্যবহার হচ্ছে এবং ইনজেকশন ফর্মে যেসব ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে, এগুলো কমপক্ষে ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকার প্রয়োজন হয়।’

এই চিকিৎসক বলেন, ‘বড় চ্যালেঞ্জ হলো ডোনারদের কারও কারও নমুনা অ্যান্টিবডি কম থাকে। যাঁরা অধিক মাত্রায় আক্রান্ত হন, যাঁদের মধ্যে লক্ষণ উপসর্গ বেশি থাকে, তাঁদের মধ্যে অ্যান্টিবডি বেশি থাকে। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, অ্যান্টিবডি পরিমাপ করা। কিছু কিছু জায়গায় অ্যান্টিবডি টেস্ট হচ্ছে। প্লাজমার মূল শক্তি হচ্ছে অ্যান্টিবডি। কারণ এটা ভাইরাসের গায়ে লেগে, ভাইরাসকে অকেজো করে দেয়, তখন ভাইরাস আর সেলের মধ্যে ঢুকতে পারে না। অ্যান্টিবডি টেস্ট দ্রুত করা দরকার। প্লাজমা দিতে হবে প্রথম দিকে। প্রথম দিকে শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ বেশি থাকে।’

গণস্বাস্থ্য হাসপাতালর আইসিউ-প্রধান নাজির মোহাম্মদ বলেন, অ্যান্টিবডির যে লেভেলটা বিভিন্ন রকম পেশেন্টের বিভিন্ন রকম লেভেল আসে। যেমন যাদের কি না খুব কম লক্ষণের মধ্যে, তারা সেরে যায়। এখন তাদের দেখা যাচ্ছে। ৩০ দিন পরে টেস্ট করে দেখা গেল, তাদের লেভেল নেই অ্যান্টিবডির। তাদের খুব লো লেভেল। অনেকে আগে ১০০ দিনের মধ্যে ৩৪ দিনে ওয়ান থার্ড করে নেমে যায়। এটা আরেকটা গ্রুপ অ্যান্টিবডির মধ্যে ২০ রকমের অ্যান্টিবডি স্টাডি হয়েছে। ২টা খুব বিপজ্জনক। এখন পর্যন্ত করোনার সবচেয়ে বড় ডাইলেমা যেটা, অ্যাটাকটা কোন দিক দিয়ে করবে? অ্যান্টিবডিটা হলো প্যাসিভ ইমিউনিটি। আর ভ্যাকসিনেশন হলো অ্যাকটিভ ইমিউনিটি। আর একটা অপশন হলো, মেডিসিন দিয়ে মারা যায় কি না। মেডিসিনের মধ্যে রেমডিসিভির ছাড়া অন্য কোনো ড্রাগ ইউনিফর্ম রেজাল্ট দেয়নি। রেমডিসিভির দিয়ে কিউর করা যায় ১১ দিনের মধ্যে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ ও নগর হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. গোলাম মো. কোরেইশী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিট উদ্ভাবক অণুবিজ্ঞানী বিজন কুমার শীল, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, অধ্যাপক ডা. শওকত আরমান, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের মাইক্রো বায়োলজির প্রধান অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান, পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ডা. বদরুল হক।


Search News




© Daily matrichaya. All rights reserved.
Design BY PopularHostBD